রবিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৩, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তানোরে জমির বিরোধের বিচারেই পুলিশের সামনে ব্যবসায়ীকে মারপিট আহত ৩ রাজশাহীতে আগে ট্রেনের টিকিটের আগ্রহ নাই যাত্রীদের! রাজশাহীতে আগে ট্রেনের টিকিটের আগ্রহ নাই যাত্রীদের! ক্ষেতলালে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক চাঁদ আটক বাগমারায় ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত রাষ্ট্রের ক্ষতির উদ্দেশ্যে সংবাদ পরিবেশন মোটেও কাম্য নহে-বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন মধুপুরে যুবককে পিটিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা ১৫১ বছরে দেশসেরা রাজশাহী কলেজ জেসমিন নিহতের ঘটনার বিচার বিভাগীয় দাবি রাজশাহী বিশিষ্ঠজনদের মধুপুরে হেরোইন সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার মানবতাবাদী প্রয়াত নেতা রতন বড়ুয়ার স্মরনসভা ও দানানুষ্ঠান ১৫ এপ্রিল নওগাঁয় ৩৪২বস্তা চাল নগত ২ লক্ষ টাকাসহ বার জন ডাকাত গ্রেফতারঃ শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার-২ কোম্পানীগঞ্জে হিউম্যান ফ্রি সার্ভিস সেন্টার এর ইফতার সামগ্রী বিতরণ রাজশাহীতে ব্রয়লারের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দাম প্রতিবন্ধী স্ব-নির্ভর সংস্থা’র উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পুঠিয়ায় ঈমামের বেতন চাওয়ায় দুইজনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা রাঙ্গাবালীতে বন বিভাগের ১০ পিস গাছ উদ্ধার বগুড়া‘র ডিবি মাদক বিরোধী অভিযানে ফেন্সিডিলসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

হাসপাতালে আ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কাছে পণবন্দী রোগী-স্বজনেরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ মে, ২০২১
  • ১১১ বার পঠিত

নাছির উদ্দিন শোয়েব: অসুস্থ ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া বা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগী স্থানান্তরের জন্য জরুরী বাহন আ্যাম্বুলেন্স। করোনা (কোভিড-১৯) মহামারিতে আ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুন। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী বা লাশ বহনের জন্য সাধারণ মানুষকে আ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে গিয়ে সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল কেন্দ্রকি গড়েওঠা আ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কারণে অসহায় রোগীর স্বজনেরা। এই সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে তাদের বিরুদ্ধে  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও কোনো পদক্ষেপ না নিতে পারে না।
জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়াদী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় কিডনী ইনষ্টিটিউট এবং হাসপাতাল ও জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালের সামনে আম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয়।
এদিকে হাসপাতালে যে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে তা অনেকটা আকাশের চাঁদের মতো। সরকারি আ্যাম্বুলেন্স সুবিধা স্বাধারণ মানুষ কখনোই পায় না বলে অভিযোগ আছে। এমনকি সরকারি আ্যাম্বুলেন্স সুুবিধা পেতে কার কাছে যেতে হবে, কোথায় পাওয়া যাবে এ বিষয়ে জানা নেই অনেকেরই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা বেশির ভাগ রোগীর আত্মীয়স্বজনকে পড়তে হচ্ছে হাসপাতালের সামনে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুলেন্সের দালালদের খপ্পরে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে আনা-নেওয়া করতে চড়া ভাড়া দিতে হচ্ছে তাদের। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রয়েছে কয়েকশ আ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু আ্যাম্বুলেন্সের মালিক ও চালকরা সিন্ডিকেট করে এগুলো চালায়। হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে তাদের নিয়োগ করা দালাল। কোন ওয়ার্ডে কোন রোগী কখন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পায়, কখন হাসপাতাল ছাড়বে, কোনো রোগী মারা গেলে লাশ কখন কোথায় যাবে এসব খবর দালালরা সরবরাহ করে। হাসপাতালের কতিপয় ওয়ার্ডবয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারির যোগসাজশে আ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট তথ্য নেয়। এরপর হাসপাতালের সামনে থেকে কেউ আ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে চাইলে তিন থেকে চারগুন পর্যন্ত ভাড়া হাকায় তারা। ঢাকার মধ্যে কোনো আ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ৩ থেকে ৪’শ টাকার বেশি না হলেও তারা সিন্ডিকেট করে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা দাবি করে।
ঢাকার বাইরে রোগী বা লাশ বহনের ক্ষেত্রে এভাবে কয়েকগন টাকা দাবি করে থাকে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের সামনে থেকে তাদের আ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো আ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে দেয়না তারা। এমনকি বাইরে থেকে রোগী নিয়ে আসা আ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতাল থেকে রোগী বহন করতে পারে না এই চক্রের কারণে। তারা বাইরের আ্যাম্বুলেন্সের চালকদেরকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। কখনো বাইরের আ্যাম্বুলেন্স চালকদের মার ধর করে হাসপাতাল এলাকার বাইরে সরে যেতে বাধ্য করে তারা। সরকারি হাসপাতালের সামনে বা রাস্তা থেকে রোগী নিতে বাধা দেয়। কেউ রোগী নিতে চাইলেও মোটা ভংকের ভাড়া নির্ধারণ করে দেয় হাসপাতালের আ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট। আর সেই চড়া ভাড়া থেকে অর্ধেক দিতে হয় সিন্ডিকেটকে। এভাবে ঢাকার সবকটি সরকারি হাসপাতালের সামনে থাকা আ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ মানুষ ও রোগীর স্বজনেরা জিম্মি হয়ে আছেন। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে নিয়ে স্বজনেরা আ্যাম্বুলেন্স চালকদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে কখনো তর্কবিতকের্ও জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ আছে-এই সিন্ডিকেটের সাথে বাকবিতন্ডা করে কেউ পেরে ওঠে না। শত শত আ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সিন্ডিকেটের নির্ধারিত চড়া ভাড়া ছাড়া একটি আ্যাম্বুলেন্সও ছাড়ানে না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সারাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী আসা যাওয়া করে। যাদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরে থেকে আসেন। এসব হাসপাতালে এম্বুলেন্সের চাহিদাও বেশি থাকে। আর এই সুযোগটা কাজে লাগায় সিন্ডিকেট। বাইরে থেকে আসা অনেক রোগীর স্বজন তাদের সঙ্গে যুক্তিতর্ক ও যাচাই বাচাই করে পেরে উঠেন না। তাই বাধ্য হয়ে তাদের কাছে যেতে হয়। এম্বুলেন্স চালকরা জানিয়েছেন, করোনার আগে ঢাকার পাশ্ববর্তী কুমিল্লায় কোন এম্বুলেন্স গেলে ৫ হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া নেয়া হতো। ফরিদপুরে নেয়া হতো সাড়ে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। সিলেটে যেতে কোন ফেরি ভাড়া না লাগার কারণে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা নেয়া হতো। হাসপাতাল ভেদে এই ভাড়া আরও বেশি। তবে করোনাকালে এই ভাড়ার এখন দেড় থেকে দ্বিগুণ করে নেয়া হচ্ছে
জানা গেছে, ঢাকায় এখন প্রায় আড়াই হাজার এম্বুলেন্স চলাচল করে। এর মধ্যে সাত’শ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালের। আর ভাড়ায় চলাচল করে বাকি ১ হাজার ৮০০টি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এম্বুলেন্স চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ভাড়ার কোন নিয়মনীতি নাই। একেক চালক ও একেক হাসপাতালে একেক রকম ভাড়া নেয়া হচ্ছে। চালকরা জানিয়েছেন, এম্বুলেন্স মালিকদের সংগঠনের বাইরে হাসপাতাল ভিত্তিক আলাদা আলাদা সংগঠন রয়েছে। মূলত তারাই এক একটি হাসপাতালের এম্বুলেন্স সেবা নিয়ন্ত্রণ করছেন। একাধিক চালক জানিয়েছেন, নিয়মনীতি না থাকায় হাসপাতাল ভিত্তিক সিন্ডিকেট তাদের ইচ্ছামত ভাড়ায় সার্ভিস দিচ্ছেন। তাদের কথামত চালকরাও রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ওইভাবে ভাড়া আদায় করছেন। স্বজনরা হাসপাতালের ভেতরে বিভিন্ন এম্বুলেন্স যাচাই-বাচাই করার সুযোগ থাকলেও খুব একটা সুবিধা পাচ্ছে না। কারণ এখানকার বেশিরভাগ চালকই কমিশন ভিত্তিক গাড়ি চালান। এক্ষেত্রে ভাড়া যত বেশি আদায় করতে পারবেন কমিশন তত বেশি পাবেন।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেবলেছেন- আ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালি যে হাসপাতালের প্রশাসনও কখনো কখনো তাদের নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না। তাদের ব্যাপাাের কোনো ব্যবস্থা নিতে গেলেই ধর্মঘট ডেকে বসে। তারা আন্দোলন শুরু করে, রোগী বহন বন্ধ করে দেয়। এতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। তিনি বলেছেন, এ ব্যাপারে বিকল্প কি করা যায় সে চিন্তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন-আ্যাম্বুলেন্স সেবাকে ডিজিটাল করার চিন্তা করা হচ্ছে।  একটি আ্যাপস তৈরি করে আ্যাম্বুলেন্স সেবা সহজ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আ্যাপস হলে আর সিন্ডিকেটের কবলে পড়তে হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By cinn24.com
themesbazar24752150