শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ০১:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁর একুশে পরিষদের সন্মানিত উপদেষ্টা অধ্যাপক নুরুল হক আর নেই নওগাঁয় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত নওগাঁ বাস্তবায়ন ইরিবোরো সমলয় চাষের প্রদর্শনী ও মাঠ দিবস পরিদর্শন করেন মতিউর রহমান গাইবান্ধায় হয়ে গেল লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসব মানবসেবায় এগিয়ে এলেন মধুপুর উপজেলা প্রেসক্লাব দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশের অভিযানে নকল স্বর্ণে মূর্তির আসামি সহ পাঁচজন গ্রেফতার রায়কালী উন্নয়ন ফোরামের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন কালাইয়ে শিক্ষকের পিতার ইন্তেকালে শোক প্রকাশ নওগাঁ ব্রিটিশ আমলের ২০০ বছরের পুরাতন মসজিদের সন্ধান মিলেছে হাতিমন্ডালা গ্রামে নওগাঁ পাওয়ার টিলার এর ধাক্কায় জিল্লুর রহমান নামে এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু ভারতবর্ষের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড, রাজেন্দ্র প্রসাদ এর প্রয়াণ দিবস আজঃ নওগাঁ ধামইরহাটে যুবলীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত সুন্দরগঞ্জে চার পুলিশ হত্যা দিবস পালিত নওগাঁ প্রাইভেট কার থেকে ৭২ কেজি গাঁজাসহ মুনির হোসেন নামে এক জন গ্রেপ্তার বগুড়ায় গাঁজাসহ এক মাদক কারবারি আটক জয়পুরহাটের এসপি নুরে আলম বিপিএম- পদক পেলেন চট্টগ্রাম চকবাজার থানা এলাকায় চাঁদাবাজির মহোৎসবের নেপথ্যে নায়ক থানার অবৈধ ক্যাশিয়ার বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস পালিত কালাইয়ে ব্র্যাকের উদ্যোগে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে গণনাটক অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে কলেজ ছাত্রীর অনশন

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের চিঠি গুম হওয়া ৩৪ জন কোথায়?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১
  • ১০৩ বার পঠিত

নাছির উদ্দিন শোয়েব : গুম বা নিখোঁজের বিষয়ে জাতিসংঘ থেকে হঠাৎ বাংলাদেশকে চিঠি দেয়ার পর আবারও বিষয়টি সামনে এসেছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া ৩৪ জনের অবস্থান ও ভাগ্য জানতে চেয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল। ইতিমধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে ৩৪ জনের গুমের বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে জবাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
এদিকে গুম হওয়া ৩৪ ব্যক্তির অবস্থান ও ভাগ্য জানতে চেয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের চিঠি পাঠানোটা একটা বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীরা। যদিও তারা মনে করছেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে বা অবস্থান জানতে জাতিসংঘের চিঠি পাঠানোর প্রয়োজন ছিল না। গুম হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। কিন্তু গুমের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।
এরআগে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, গত ১৪ বছরে দেশে ৬০৪ জনকে গুম করা হয়েছে। সব গুমের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গুমের শিকার সব নিখোঁজ ব্যক্তিকে অবিলম্বে খুঁজে বের করা, প্রতিটি গুমের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন, দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদ স্বাক্ষর করে গুম প্রতিরোধে সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০২০ (২৫ আগস্ট) পর্যন্ত ৬০৪ জন গুমের শিকার হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনরা অভিযোগ তুলেছেন। এদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ৮৯ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং ৫৭ জন ফেরত এসেছে। অন্যদের বিষয়ে সুর্নিদিষ্ট তথ্য গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়নি।
এসব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবার, স্বজন বা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা, সাংবাদিক বা মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, বিশেষ বাহিনী-র‌্যাব, ডিবি পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের পরিচয়ে সাদা পোশাকে ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের তুলে নেওয়া হচ্ছে। প্রায়ই সংশ্লিষ্ট বাহিনী তাদের গ্রেফতার বা আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরিচিত কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ছাড়া খুব কম ক্ষেত্রেই আলোচনা বা আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং উদ্ধারের তৎপরতা লক্ষ করা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুম হওয়ার কিছুদিন পর হঠাৎ করেই তাদের কোনও মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় বা ক্রসফায়ারে তাদের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়। যারা ফিরে আসতে পেরেছেন তাদের ক্ষেত্রেও কী ঘটেছে তা জানা যায় না।
সরকারের পক্ষ থেকে গুমের ঘটনা বরাবর অস্বীকার করা হলেও দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার ব্যবস্থার আওতাধীন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ কমিটি এ বিষয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে এসেছেন। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির ৬৭তম অধিবেশনে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক অথবা মর্যাদাহানিকর আচরণ বা শাস্তিবিরোধী সনদের আওতায় বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা হয়। এ পর্যালোচনায় অঘোষিত আটক, যাকে কমিটি অন্তর্ধান বা গুম হিসেবে বর্ণনা করেছে। সেই বিষয়টিতে কমিটি বলেছে, এভাবে আটককৃত ব্যক্তিকে যদি হত্যা করা হয় অথবা তিনি ফিরে আসেন যাই ঘটুক না কেন, তাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে গুম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
কমিটি তাদের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে সব আটক ও আটকাবস্থায় মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত বাহিনীর বাইরে একটি স্বাধীন তদন্ত সংস্থা দ্বারা দ্রুততার সঙ্গে পরিপূর্ণ তদন্ত সম্পাদন করা এবং গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনের মাধ্যমে ‘গুম’কে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সনদটি স্বাক্ষর করার সুপারিশ করে।
এদিকে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া ৩৪ জনের অবস্থান ও ভাগ্য জানতে চেয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। ওই চিঠির সূত্র ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১৪ জুন পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) একটি চিঠি পাঠায়।
জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের বিশেষ শাখা হয়ে ওই চিঠি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলরের ওয়ার্কিং গ্রুপের পাঠানো গুম হওয়া ৩৪ জনের বিস্তারিত পরিচয় ও তাদের গুম হওয়ার সময়কার বর্ণনা এবং এ সংক্রান্তে থানা পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে অভিযোগ দেয়ার বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে। তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা হলেন- মো. ইলিয়াস আলী, মোহাম্মদ চৌধুরী আলম, আব্দুল্লাহ আজমি, মীর আহমাদ বিন কাশেম, ইফতেখার আহমেদ দিনার, আনসার আলী, সাজেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আব্দুল কাদের ভূঁইয়া, মো. কাউসার হোসেন, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, আল আমীন, সোহেল রানা, মোহাম্মদ হোসেন চঞ্চল, পারভেজ হোসেন, মো. মাহফুজুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন, মাহবুব হাসান সুজন, কাজী ফরহাদ, সম্রাট মোল্লা, তপন দাশ ওরফে তপু, কে এম শামীম আক্তার, খালেদ হাসান সোহেল, এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. হাসিনুর রহমান, রাজু ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, মো. তারা মিয়া, মোহাম্মদ নূর হোসেন, মোহন মিয়া, কেইথিলপাম নবচন্দ্র, সেলিম রেজা পিন্টু ও জাহিদুল করিম।
এদিকে দেশে ৩৪ জন ব্যক্তির গুমের বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে জবাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটিকে জবাব দেয়া হবে বলে জানান তিনি। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুনিয়ার কম বেশি সব দেশেই গুম হয়। তবে তারা (জাতিসংঘ) ভারতকে কিছু বলে না। পাকিস্তানকে কিছু বলে না। আমরা তাদের বেশি পাত্তা দেই। তাই তারা আমাদের অনবরত হ্যামার করে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৪ জন গুম হয়েছে। কই তারা তো এটা নিয়ে কিছুই বলে না। তবে আমাদের কাছে তারা যেটা জানতে চেয়েছে আমরা জবাব দেব।
এ বিষয় মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেছেন, বাংলাদেশে গত বেশ কয়েক দশক ধরে একের পর এক গুমের ঘটনা ঘটছে, কিন্তু সরকারের তরফ থেকে এটি বন্ধ করার জন্য দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ আমরা লক্ষ করিনি। গত এক দশক ধরে বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কখনোই বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি। জাতিসংঘের এই চিঠি অবশ্যই একটা অগ্রগতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By cinn24.com
themesbazar24752150