মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গজল সম্রাট পঙ্কজ উদাস আর নাই : গাইবান্ধায় জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির মিলনমেলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী গোবিন্দগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক এর জন্য মনোহরদী থানার ওসি গণসংগীত শিল্পী আব্দুল লতিফের প্রয়াণ দিবস আজ নবীগঞ্জে জেল ফেরত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের নওগাঁ রাণীনগর আগাছানাশক ওষুধ ছিটিয়ে দেড় বিঘা জমির ধান বিনষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা ভারতীয় চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীর জন্মদিন দেওয়ানগঞ্জে স্কুল শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করলো চেয়ারম্যান প্রার্থী গাইবান্ধায় দুদকের অভিযানে পাসপোর্ট অফিসের তিন দালাল গ্রেফতার ৭ দিনের জেল কালাইয়ে মিলনের ঐতিহাসিক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার তহবিল থেকে উপজেলার ৩৭ জন উপকার ভোগীদের মাঝে ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করেন খাদ্যমন্ত্রীঃ দুপচাঁচিয়ায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার সুন্দরগঞ্জে বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান কল্যাণ সমিতির কমিটি গঠন লালমনিরহাটে তৃত্বীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর পাশে উপজেলা চেয়ারম্যান সুজন দেওয়ানগঞ্জে আতশবাজির শব্দে একজনের মৃত্যু নওগাঁর মহাদেবপুরে চকচকি হাফেজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয়তল ভবন ভিত্তিপ্রস্তর শুভ উদ্বোধন নবীগঞ্জ উপজেলা পানিউমদা ভুমি অফিসের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সিপিবির সম্মেলন অনুষ্ঠিত সভাপতি নান্নু, সম্পাদক সাজু গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাতীয় ফসল জিরা মসলা চাষের ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন

দেহ ব্যবসা করে পড়াশোনা, ৭টি আন্তর্জাতিক খেতাব জিতেছেন তিনি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১
  • ২৪০ বার পঠিত

ভারতের প্রথম রূপান্তরকামী সুন্দরী তিনি। দেশে তো বটেই বিদেশেও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক খেতাব জিতেছেন। একবার নয় সাত বার। তবু উপার্জনের জন্য এখনো নিয়মিত রাস্তায় দাঁড়াতে হয় তাকে।

নাজ জোশী একজন রূপান্তরকামী। তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফ্যাশন টেকনোলজি (এনআইএফটি)-র ছাত্রী। পোশাক ডিজাইনিংয়ে স্নাতক। নিজের ব্যাচে শীর্ষ স্থানাধিকারী ছিলেন নাজ। তবে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে বারে নাচতে হয়েছে। এমনকি যৌনকর্মীর কাজও করেছেন নাজ।

ছোটবেলাতেই বাবা-মা তাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তার মেয়েলি হাবভাবে লজ্জায় পড়তেন তারা। প্রতিবেশীদের ভয়ে মুম্বাইয়ের এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তাকে। সেখানেই মানুষ হন নাজ। তবে নিজের খরচ বরাবর নিজেই বহন করেছেন। পড়াশোনার ইচ্ছে ছিলো প্রবল। ১২ বছর বয়স থেকে বারে নাচছেন। তাতে অবশ্য নাজের কোনো অসুবিধা হয়নি। বরং মেয়েদের মতো পোশাক পড়তে পেরে, মেক আপ করার সুযোগ পেয়ে ভালোই লাগতো তার।

এভাবেই উপার্জন করে আইএমটি থেকে এমবিএ-ও করেছেন নাজ। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন সংত্রান্ত অস্ত্রোপচারের খরচও জোগাড় করেছিলেন নিজেই।

মডেলিং করবেন কখনো ভাবেননি। বরং ডিজাইনার হওয়ারই ইচ্ছে ছিলো। পেশায় মডেল এক তুতো বোনের মাধ্যমে মডেলিংয়ের দুনিয়ায় আসা তার। পরে সেই বোনেরই অকাল মৃত্যুতে মডেলিংকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা মাথায় আসে নাজের।

২০১২ সাল থেকে মডেলিং এজেন্সির কাজ করতে শুরু করেন। ২০১৪-এ প্রথম সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন নাজ। তার সাম্প্রতিক সাফল্য এমপ্রেস আর্থের খেতাব জয়। মে মাসে ভারতের হয়ে এই আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন নাজ। গত ১ জুন সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হন। ওই প্রতিযোগিতায় নাজ একাই ছিলেন রূপান্তরকামী।

আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় নারীদের সঙ্গে টক্কর দিয়ে সেরা সুন্দরীর খেতাব ছিনিয়ে নেওয়া রূপান্তরকামী তিনিই প্রথম। তবে নাজকে তার জন্য অনেক গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি কমবয়সিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় বয়স নিয়েও কুমন্তব্য শুনতে হয়েছে তাকে।

মোট ১৫টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। নাজ জানিয়েছেন, একজন রূপান্তরকামীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে জেনে অনেকে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন। তবে এই সব অপমান গায়ে মাখেননি নাজ। তিনি তার সেরাটা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং সেরার খেতাবটি ছিনিয়ে নিয়েছেন।

নাজের সঙ্গে শেষ পাঁচে ছিলেন কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ব্রাজিল এবং স্পেনের সুন্দরীরা। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হন কলম্বিয়ার প্রতিযোগী ভ্যালেন্টিনা। তৃতীয় স্থানে ছিলেন মেক্সিকোর অলিভিয়া। দু’জনেই নাজের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করেছেন।

এমপ্রেস আর্থের এই প্রতিযোগিতা দুবাইয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের আবহে আয়োজকরা স্থান বদলান। ঠিক হয় কোনো নির্দিষ্ট দেশের বদলে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মেই বসবে এমপ্রেস আর্থের আসর। সেই মতো ডিজিটাল প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীদের নানারকম কাজ দেওয়া হয়েছিল। সেই সব কাজ সম্পূর্ণ করার পাশাপাশি ইভনিং গাউন এবং নিজের দেশের জাতীয় পোশাক ও সংস্কৃতির প্রদর্শন করতে বলা হয় প্রতিযোগীদের। সামাজিক দায়িত্ব পালনের কাজে গ্রামের মহিলাদের আত্মরক্ষার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন নাজ। তার সেই আলোচনা বিচারকদের প্রশংসা পায়।

শেষ রাউন্ডে ছিলো প্রশ্নোত্তর পর্ব। শেষ পাঁচ প্রতিযোগীকে একই প্রশ্ন করেছিলেন বিচারকেরা। জানতে চাওয়া হয়, ‘‘লকডাউনই কি অতিমারির একমাত্র সমাধান?’’ জবাবে নাজ বলেন, ‘‘লকডাউন হয়তো রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমাতে পারে। তবে অতিমারিকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে পারে মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতাই। আর আমরা যারা বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম থেকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সুবিধা পাই, তারা এই মঞ্চকে সচেতনতা বাড়ানোর কাজে লাগাতে পারি। তাদের ধৈর্য্য ধরতে বলতে পারি। ইতিবাচক হওয়ার প্রেরণা দিতে পারি।’’ অতিমারি এবং লকডাউন নিয়ে নাজের ভাবনা ভালো লাগে বিচারকদের।

নাজ অবশ্য এর আগেও আরো বহু আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছেন। ২০২০ সালে মিস ইউনিভার্স ডাইভারসিটির খেতাব পেয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত পর পর তিন বার মিস ওয়ার্ল্ড ডাইভারসিটির মুকুট উঠেছে তার মাথায়। এ ছাড়া মিস রিপাবলিক ইন্টারন্যাশনাল সৌন্দর্য রাষ্ট্রদূত হয়েছেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফেও সৌন্দর্য দূত হিসাবে নির্বাচিত করা হয় তাকে।

তবে আন্তর্জাতিক খেতাব পেলেও ব্যক্তিগত জীবনে এখনো বেশ অসহায় নাজ। স্থায়ী উপার্জনের রাস্তা নেই। ফ্যাশন ডিজাইনের টপার, আইএমটি থেকে এমবিএ করা নাজ বহু চেষ্টা করেও একটি চাকরি পাননি। নাজ জানিয়েছেন, এর কারণ তিনি একজন রূপান্তরকামী আর সমাজ এখনো একজন রূপান্তরকামীকে আলাদা চোখেই দেখে।

বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হয়ে কাজ করেছেন। তবে সে সব অনিয়মিত। এখনো অন্য বহু রূপান্তরকামীদের মতো নিয়মিত সকালে রাস্তায় নেমে হাত পাততে হয় তাকে। তবে নাজ জানিয়েছেন সমাজের এই মনোভাবের বিরুদ্ধে তার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা জারি থাকবে। তার মতো আর যারা এই পরিস্থিতির শিকার, তাদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই এই চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি। বরাবরই নিজর খরচ নিজে চালানোর পক্ষপাতি নাজ তাই কোনও কাজকেই ছোট মনে করেন না।

মুসলিম মা এবং হিন্দু পাঞ্জাবী বাবার সন্তান নাজ। তবে বাবা এখনো কথা বলেন না তার সঙ্গে। মা-ও সুযোগ পেলেই গঞ্জনা দেন। নাজ জানিয়েছেন, রূপান্তরকামী হিসেবে অনেকরকম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাদের। এর সঙ্গে পরিবারকে পাশে না পাওয়া আরো বেদনাদায়ক।

নাজ এখন একা মা। দু’টি মেয়ে আছে তার। একটি আইভিএফ শিশু। অন্য জনকে তার মা ময়লা ফেলার পাত্রে ফেলে দিয়েছিলো। সেখান থেকে তাকে তুলে এনে দত্তক নিয়েছেন নাজ। তাদের নিজের মতো করে মানুষ করছেন। নাজ জানিয়েছেন, ভালোবাসা তার দুই সন্তানের কাছেই পেয়েছেন তিনি। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By cinn24.com
themesbazar24752150