রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দেওয়ানগঞ্জে স্কুল শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করলো চেয়ারম্যান প্রার্থী গাইবান্ধায় দুদকের অভিযানে পাসপোর্ট অফিসের তিন দালাল গ্রেফতার ৭ দিনের জেল কালাইয়ে মিলনের ঐতিহাসিক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার তহবিল থেকে উপজেলার ৩৭ জন উপকার ভোগীদের মাঝে ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করেন খাদ্যমন্ত্রীঃ দুপচাঁচিয়ায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার সুন্দরগঞ্জে বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান কল্যাণ সমিতির কমিটি গঠন লালমনিরহাটে তৃত্বীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর পাশে উপজেলা চেয়ারম্যান সুজন দেওয়ানগঞ্জে আতশবাজির শব্দে একজনের মৃত্যু নওগাঁর মহাদেবপুরে চকচকি হাফেজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয়তল ভবন ভিত্তিপ্রস্তর শুভ উদ্বোধন নবীগঞ্জ উপজেলা পানিউমদা ভুমি অফিসের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সিপিবির সম্মেলন অনুষ্ঠিত সভাপতি নান্নু, সম্পাদক সাজু গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাতীয় ফসল জিরা মসলা চাষের ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন নওগাঁ মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সকল হত্যা-গুমের‌ বিচার করবে বিএনপি এমপি হবার শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রতিপাদ্য ও যুক্তি মধুপুরে বার্ষিক সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় তালাকপ্রাপ্ত স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে হত্যা বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সমাবেশ রোজার আগেই জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে প্রতি কেজি চিনির দাম ২০টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন নওগাঁয় বাজার পরিস্থিতি ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব অনুষ্টিত

পরকীয়ার বলি তিনটি জীবন: আদালতে এএসআই সৌমেনের স্বীকারোক্তি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১
  • ১১৭ বার পঠিত

কুষ্টিয়ায় স্বামীর গুলিতে স্ত্রী, পুত্র ও স্ত্রীর প্রেমিক নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। রোববার রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় করা এই মামলার বাদী নিহত শাকিলের মা। একমাত্র আসামি পুলিশের এএসআই সৌমেন রায়। ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় দুটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যেই ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিজ নিজ বাড়িতে তাদের দাফনও সম্পন্ন হয়েছে।
লাশ তিনটির ময়নাতদন্ত করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তিনজনকে দুটি করে ছয়টি গুলি করা হয়েছে। প্রত্যেকের মাথার কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনটি হত্যাকাণ্ডে সৌমেন ১১ রাউন্ড গুলি খরচ করেছেন। তার কাছ থেকে একটি গুলি ও একটি পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। তিনজনকে হত্যার ঘটনায় আটক এএসআই সৌমেন রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার বিকালে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় খুলনা রেঞ্জ ও খুলনা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুলনা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় গঠিত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) তানভীর আহমেদ। অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মো. খায়রুল আলম ও জেলা বিশেষ শাখার ডিআইও-১ শেখ মাসুদুর রহমান। কমিটি সাত কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। এ ছাড়া খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদকে। এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন ও কুষ্টিয়া ডিআইও-১ ফয়সাল হোসেন।
রোববার বিকাল পরিদর্শনকালে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (এডমিন) একেএম নাহিদুল ইসলাম জানান, দুই কার্য দিবসে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হবে। খুলনা জেলার পুলিশ সুপার মাহবুব রহমান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনা জানার পর সৌমেন রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল আলম জানান, একটি হত্যা মামলা হয়েছে মামলার বাদী নিহত শাকিলের মা।
সৌমেন পারিবারিকভাবে ২০০৫ সালে পাশের গ্রামে বিয়ে করেন। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি খুলনায় থাকতেন। ওই পরিবারে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া একটি মেয়ে ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া একটি ছেলে রয়েছে। সুখের সংসার ছিল সৌমেনের।
সৌমেন ২০০৪ সালে পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। ২০১৭ সালে পদোন্নতি পেয়ে এএসআই হয়ে কুষ্টিয়ায় পোস্টিং নেন। কুষ্টিয়ার কুমারখালী, মিরপুর ও ইবি থানাধীন বিভিন্ন ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করেন। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় থাকাকালীন একটি মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আসমা থানায় এলে সেখান থেকেই পরিচয়। আসমা ধর্মান্তরিত হয়ে নাম পরিবর্তন করে হয় আঁখি। কিন্তু সৌমেন কুষ্টিয়া থেকে খুলনায় বদলির পর থেকেই আসমার সঙ্গে সৌমেনের মনোমালিন্য চলছিল। এরই মাঝে শাকিলের সঙ্গে পরিচয় আর বন্ধুত্বও বিষয়টি নিয়ে চটে যান সৌমেন। এদিকে আসমার এলাকার মানুষেরা জানান, সৌমেনের সঙ্গে বিয়ের আগে আরও দুটি বিয়ে হয়। নিহত শিশু রবিন তার দ্বিতীয় স্বামী রুবেলের সন্তান।
আদালতে সৌমেনের স্বীকারোক্তি : দণ্ডবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত এএসআই সৌমেন কুমার রায়। সোমবার বিকালে কুষ্টিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এনামুল হকের আদালতে তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন। দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি বহর তাকে আদালতে হাজির করে। পরে বিকাল ৪টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ৪টা ৩০ মিনিটে তাকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার বলেন, নিহত আসমা খাতুনের মা হাসিনা খাতুন বাদী হয়ে রোববার হত্যা মামলা করেছেন। আসামি সৌমেনকে দুপুরে আদালতে নেওয়া হয়। তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রোববার পরকীয়ার জেরে কুষ্টিয়া শহরে প্রকাশ্যে স্ত্রী, সৎছেলে ও স্ত্রীর প্রেমিক এক বিকাশকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেন এএসআই সৌমেন রায়। দুপুর সোয়া ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড় এলাকার নাজ ম্যানশন মার্কেটের বিকাশের দোকানের সামনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By cinn24.com
themesbazar24752150