শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বেওয়ারিশ সেবা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অন্ধ হাফেজদের নিয়ে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ২০২৪ এর রেজিষ্ট্রেশন চলছে নওগাঁয় ৫৫ বছর বয়সী কোহিনুরকে বাবার বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল প্রকৌশলী মোয়াজ্জিম‌ হোসেন নওগাঁ দ্রুত বিচার পাওয়া জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গ্রাম আদালত নওগাঁ গৌরশাহী মধ্যপাড়ায় আগুনে পুড়ে আলতাফ হোসেন নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নব-নির্বাচিত এমপির সাথে সৌজন্য সাক্ষাত ও বোরো ধানবীজের স্কীম পরিদর্শন করছেন বিএডিসি বগুড়া জোনের উপ-পরিচালক নওগাঁ মহিলা আওয়ামী লীগের ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নওগাঁর আত্রাই নদী থেকে বালু তোলায় ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন দেখার কেউ নেই নওগাঁ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে চার প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার চারশত টাকা জরিমানা কালাইয়ে জাতীয় বীমা দিবস ২০২৪ পালিত নওগাঁর একুশে পরিষদের সন্মানিত উপদেষ্টা অধ্যাপক নুরুল হক আর নেই নওগাঁয় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত নওগাঁ বাস্তবায়ন ইরিবোরো সমলয় চাষের প্রদর্শনী ও মাঠ দিবস পরিদর্শন করেন মতিউর রহমান গাইবান্ধায় হয়ে গেল লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসব মানবসেবায় এগিয়ে এলেন মধুপুর উপজেলা প্রেসক্লাব দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশের অভিযানে নকল স্বর্ণে মূর্তির আসামি সহ পাঁচজন গ্রেফতার রায়কালী উন্নয়ন ফোরামের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন কালাইয়ে শিক্ষকের পিতার ইন্তেকালে শোক প্রকাশ নওগাঁ ব্রিটিশ আমলের ২০০ বছরের পুরাতন মসজিদের সন্ধান মিলেছে হাতিমন্ডালা গ্রামে নওগাঁ পাওয়ার টিলার এর ধাক্কায় জিল্লুর রহমান নামে এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু ভারতবর্ষের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড, রাজেন্দ্র প্রসাদ এর প্রয়াণ দিবস আজঃ

ভারতে পাচার অর্ধশতাধিক তরুণী, বাধ্য করা হয় পতিতাবৃত্তিতে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ জুন, ২০২১
  • ১৪৪ বার পঠিত

ভারতে পাচারের পর সম্প্রতি এক বাংলাদেশি তরুণীকে পৈচাশিক নির্যাতনের ঘটনায় বাংলাদেশে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)। তাদের মধ্যে রাফি নামে একজনকে এই আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের অন্যতম মূল হোতা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাফি ভারতে গ্রেফতার হওয়া টিকটক হৃদয়ের সহায়তায় এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক তরুণীকে দেশটিতে পাচার করেছে বলে র‌্যাব দাবি করেছে।

র‌্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ঝিনাইদহ সদর, যশোরের অভয়নগর ও বেনাপোল থেকে নারী পাচার চক্রের মূলহোতা মো. আশরাফুল ইসলাম ওরফে বস রাফি, তার অন্যতম নারী সহযোগী সাহিদা বেগম ওরফে ম্যাডাম সাহিদা (৪৬), মো. ইসমাইল সরদার (৩৮) ও মো. আব্দুর রহমান শেখ ওরফে আরমান শেখকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নারী পাচার চক্রের সাথে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দেন।

সংস্থাটি আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশের এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতনের একটি ভিডিও সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় বেঙ্গালুরু পুলিশ রিফাজুল ইসলাম বাবু ওরফে টিকটক হৃদয় বাবু, সাগর, মোহাম্মদ বাবা শেখ, হাকিল ও দুই নারীসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করে। এরপর গত ২৭ মে ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মানব পাচার আইন ও পর্নোগ্রাফি অ্যাক্টে মামলা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় ‘বস রাফি’ ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করা হয়।

পাচারকারী চক্রে সক্রিয় দেশি-বিদেশি ৫০ জন

মঙ্গলবার বিকালে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, এ চক্রটি বিভিন্ন প্রতারণামূলক ফাঁদে ফেলে এবং প্রলোভন দেখিয়ে নারী ও তরুণীদের পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করত। দেশি-বিদেশিসহ প্রায় ৫০ জন এই সংঘবদ্ধ চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে। এই চক্রের মূলহোতা আশরাফুল ইসলাম রাফি, গ্রেফতার অন্যান্যরা তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এছাড়া ভারতে গ্রেফতার হওয়া টিকটক হৃদয় তার অন্যতম সরবরাহকারী বা এজেন্ট।

চাকরির প্রলোভনে নারীদের ভারতে পাচার করা হতো

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, হৃদয় ছাড়াও রাফির আরও এজেন্ট বা সরবরাহকারী রয়েছে। টিকটক হৃদয় অনলাইনে টিকটক ও বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া গ্রুপের তরুণীদের টিকটক মডেল বানানো ও অন্যান্য প্রলোভন দেখিয়ে উচ্ছৃঙ্খল জীবনে আকৃষ্ট ও অভ্যস্ত করাতো। পরবর্তীতে তাদেরকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন মার্কেট, সুপার শপ, বিউটি পার্লারে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাফির মাধ্যমে পাচার করে দিত। মূলত যৌনবৃত্তিতে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যেই তাদের ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে পাচার করা হতো। সেখানে তাদের মাদক ও নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে জোরপূর্বক অশালীন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হতো, যাতে তারা এ ধরনের কাজে বাধ্য হয়।

মঙ্গলবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন

পথে পথে সেফ হাউজ

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, ভিকটিমদের বৈধ বা অবৈধ উভয় পথেই সীমান্ত অতিক্রম করানো হতো। তারা কয়েকটি ধাপে পাচারের কাজটি সম্পাদন করত। প্রথমত ভিকটিমদের তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সীমান্তবর্তী জেলা যেমন- যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ নিয়ে যেত। তারপর তাদের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন সেফ হাউজে নিয়ে গিয়ে অবস্থান করানো হতো। সেখান থেকে সুবিধাজনক সময়ে লাইনম্যানের মাধ্যমে অরক্ষিত এলাকা দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করানো হতো। এরপর ভারতে থাকা এই চক্রের এজেন্টরা তাদেরকে গ্রহণ করে সীমান্ত নিকটবর্তী সেফ হাউজে রাখত। পরে সুবিধাজনক সময়ে কলকাতার সেফ হাউজে প্রেরণ করা হতো। সেখান থেকে ভিকটিমদের বেঙ্গালুরু পৌঁছানো হতো। বেঙ্গালুরু পৌঁছানোর পর গ্রেফতার ‘বস রাফি’ তাদের গ্রহণ করে বিভিন্ন সেফ হাউজে অবস্থান করাতো। পরে তাদের মাদকাসক্ত করে অমানবিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো।

বাধ্য করা হত পতিতাবৃত্তিতে

র‌্যাব জানায়, পাচারের সময় পথে সেফ হাউজগুলোতেও ভিকটিমদের জোরপূর্বক মাদক সেবন এবং পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো। সেফ হাউজগুলো থেকে তাদের ১০/১৫ দিনের জন্য বিভিন্ন খদ্দেরের কাছে সরবরাহ করা হতো। এক্ষেত্রে পরিবহন ও খদ্দেরের নির্ধারিত স্থানে অবস্থানের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হতো। গ্রেফতারকৃত রাফি এক সময় এ ধরনের পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিল। সেখানে কাজ করতে করতে সে তামিল ভাষাও রপ্ত করেছিল। ভাষাগত দক্ষতা তার এই কাজে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। একপর্যায়ে সে রিং লিডার হয়ে যায়। ভারতের এজেন্ট তাকে খদ্দের প্রতি ১০/১৫ হাজার টাকা কমিশন দিত। ক্ষেত্রবিশেষে নারীদেরকে অর্থের বিনিময়ে বিক্রিও করা হতো।

যে কারণে বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতন

র‌্যাব কর্মকর্তা কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে রাফি জানিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে যে তরুণীর ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেই তরুণী পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি নারীকে দেশে পালিয়ে আসতে সহযোগিতা করেছিল। যে কারণে তাকে এমন নির্মম অত্যাচার করা হয় এবং বলা হয় সে যদি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাহলে এই ভিডিওটি তার স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

অর্ধশতাধিক তরুণীকে ভারতে পাচার

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যেও ভিত্তিতে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেফতার রাফির শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাশ। ৮ বছর আগে থেকে সে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত শুরু করে। সেখানে সে ট্যাক্সি ড্রাইভার, হোটেলে রিসোর্ট কর্মচারী ও কাপড়ের ব্যবসাও করেছে। গত ৫ বছর ধরে সে নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত। ২ বছর আগে তার সঙ্গে টিকটক হৃদয়ের পরিচয় হয়। সে টিকটক হৃদয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রায় অর্ধশতাধিক তরুণীকে ভারতে পাচার করেছে। হৃদয় ছাড়াও ভারতে রাফির অন্যান্য এজেন্ট রয়েছে।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ভিকটিমকে পাচারের উদ্দেশ্যে টিকটক হৃদয় রাফিকে প্রলুব্ধ করে। পরে ‘বস রাফি’ তাকে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে পাচার করে বেঙ্গালুরু নিয়ে সবুজের বাড়ির সেফ হাউসে রাখে। সেখানেই ভিডিওটি ধারণ করা হয়। বেঙ্গালুরুতে বস রাফির বেশ কয়েকটি সেফ হাউজ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতেও তার সেফ হাউজ রয়েছে। তার মধ্যে ম্যাডাম সাহিদার সেফ হাউজ অন্যতম। পাচার করার আগে নির্যাতিত ওই তরুণীকে এখানেই রাখা হয়েছিল।

বস রাফির অন্যতম নারী সহযোগী ম্যাডাম সাহিদা। তার একাধিক বিয়ে হয়েছিল। সে এবং তার দুই মেয়ে সোনিয়া-তানিয়া এই পাচার চক্রের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। সোনিয়া ও তানিয়া বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে অবস্থান করছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তানিয়াকে সহাযোগী হিসেবে দেখা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By cinn24.com
themesbazar24752150