শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁ বাস্তবায়ন ইরিবোরো সমলয় চাষের প্রদর্শনী ও মাঠ দিবস পরিদর্শন করেন মতিউর রহমান গাইবান্ধায় হয়ে গেল লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসব মানবসেবায় এগিয়ে এলেন মধুপুর উপজেলা প্রেসক্লাব দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশের অভিযানে নকল স্বর্ণে মূর্তির আসামি সহ পাঁচজন গ্রেফতার রায়কালী উন্নয়ন ফোরামের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন কালাইয়ে শিক্ষকের পিতার ইন্তেকালে শোক প্রকাশ নওগাঁ ব্রিটিশ আমলের ২০০ বছরের পুরাতন মসজিদের সন্ধান মিলেছে হাতিমন্ডালা গ্রামে নওগাঁ পাওয়ার টিলার এর ধাক্কায় জিল্লুর রহমান নামে এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু ভারতবর্ষের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড, রাজেন্দ্র প্রসাদ এর প্রয়াণ দিবস আজঃ নওগাঁ ধামইরহাটে যুবলীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত সুন্দরগঞ্জে চার পুলিশ হত্যা দিবস পালিত নওগাঁ প্রাইভেট কার থেকে ৭২ কেজি গাঁজাসহ মুনির হোসেন নামে এক জন গ্রেপ্তার বগুড়ায় গাঁজাসহ এক মাদক কারবারি আটক জয়পুরহাটের এসপি নুরে আলম বিপিএম- পদক পেলেন চট্টগ্রাম চকবাজার থানা এলাকায় চাঁদাবাজির মহোৎসবের নেপথ্যে নায়ক থানার অবৈধ ক্যাশিয়ার বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস পালিত কালাইয়ে ব্র্যাকের উদ্যোগে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে গণনাটক অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে কলেজ ছাত্রীর অনশন গাইবান্ধায় প্রাইম ব্যাংকে জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট ২০২০-২৪ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে নওগাঁর ধামুইরহাটের হরিতকিডাঙ্গা থেকে ট্যাপান্টাডলসহ ০১ মাদক কারবারী কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৫

সব হারিয়ে কাঁদছে ৪ হাজার মানুষ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১
  • ১২৬ বার পঠিত

আবারও পুড়েছে রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তি। আগুনে ছারখার হয়ে গেছে সাজানো সংসার। পুড়ে গেছে দিনগুজরানের তাবৎ জিনিসপত্র। ভবিষ্যতের জন্য কষ্টে জমানো টাকা থেকে শুরু করে শিশুর পাঠ্যবইটিও রক্ষা পায়নি আগুন থেকে।

রক্ষা হয়নি মাথা গোঁজার সর্বশেষ ঠাঁইটুকুও। ফলে এখন সব হারিয়ে কাঁদছে ৪ হাজারের মানুষ। সোমবার ভোর চারটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা ভয়াবহ এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটকে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। আগুন পুরোপুরি নেভে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে। বস্তিবাসীর দাবি, আগুনে পাঁচ শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বস্তিবাসীদের কয়েকজন জানান, তারা ঘুমে থাকতেই হঠাৎ বস্তির পশ্চিম-দক্ষিণ কোণের গ্যাসের লাইন থেকে আগুন লাগে। প্রথমে কয়েকজন সেটি নেভাতে বালিচাপা দিয়েছিল। কিন্তু কাজ হয়নি। এরপর আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে অন্য বাসিন্দারাও। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি আগুনে পুড়ে যায় প্রায় ৫ শতাধিক ঘর। অধিকাংশ বাসিন্দার দাবি, আগুনে তাদের সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অনেকে সন্তান কোলে এক কাপড়ে ঘর থেকে ছুটে বের হয়ে এসেছেন জীবন রক্ষার তাগিদে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে নিজের ঘরটিও অচেনা : এই বস্তিতে অন্য বছরগুলোতেও ঘর পুড়েছে। কিন্তু সেই সময়গুলোয় অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করার কিছুটা ফুসরত পেলেও এবারের আগুন সব খেয়েছে। সোমবারের আগুনে নিঃস্ব হয়ে গেছেন রংপুরের রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম। অনেক কষ্ট করে ফ্রিজ, টিভি, খাটসহ আরও কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনেছিলেন। রাতে স্ত্রীসহ ঘুমিয়ে ছিলেন। কিন্তু ‘আগুন আগুন’ চিৎকারে দ্রুত বিছানা থেকে উঠে পড়েন। ঘর থেকে বের হতেই দাউ দাউ করে জ্বলে তার পুরো ঘর। চোখের সামনেই সব পুড়ে যায়। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে এত শখের জিনিসগুলো নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। গায়ে একটা গেঞ্জি ছিল। সে অবস্থায় বেরিয়ে গেছি। বিকাল পর্যন্ত এক কাপড়েই ধ্বংসস্তূপের নিচে নিজের ঘরটি খুঁজছিলেন তিনি।

বই পুড়ে যাওয়ায় ডুকরে কাঁদছিল স্মৃতি
বস্তির বাসিন্দা সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী স্মৃতি আক্তার। আগুনে তাদের ঘরের থাকা সবকিছুর সঙ্গে তার পড়ার বইগুলোও পুড়ে গেছে। প্রতিদিন রাতে পড়াশুনা শেষে প্রিয় বইগুলো গুছিয়ে রাখত সে। রোববার রাতে পড়াশুনা শেষ করে ১০টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েছিল। কিন্তু স্মৃতির কাছে এখন তা শুধুই স্মৃতি। ফলে অঝোরে কাঁদছিল মেয়েটি। সোমবার দুপুরে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বাবাকে উদ্দেশ্য করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে বলছিলÑ আব্বা, আমার তো সব বই পুড়ে গেছে। ক্যামনে আমি পড়ুম? আমি পড়তে চাই। মেয়ের এমন কথা শুনে বাবাও নির্বাক। কোনো কথাই যেন বলতে পারছিলেন না তিনি। অবশেষে তার মুখের দিকে তাকিয়ে বাবা বলেন, মা রে, যত কষ্টই হোক, আমি আবার তোমার বই জোগাড় করব।
কুটির শিল্পের উদ্যোক্তা নান্টু মিয়ার সব মালামাল পুড়ে গেছে। তার বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে। তিনি জানান, এই বস্তিতে গত পাঁচ বছর থেকে তিনি বাস করছেন। তিলে তিলে গড়া কুটির শিল্পের ব্যবসা গড়ে তোলেন। প্রায় দুই লাখ টাকার মাল ছিল ঘরে। কিন্তু সেই ব্যবসার সব মালামাল পুড়ে গেছে।
বনানী থানার ওসি নুরে আযম মিয়া সময়ের আলোকে বলেন, সেখানে প্রায় ১৫০টির মতো ঘর ছিল। প্রতিটি ঘরে আবার ছোট আকারের ছয় থেকে আটটি ছোট কক্ষ ছিল। সেখানে প্রায় ৫০০টির পরিবার বাস করত। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। অধিকাংশ বাসিন্দা এই আগুনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা তা নিয়ে কাজ করছি।
আগুন লাগার খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক যা যা করণীয় সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে ডিএনসিসি।  মহাখালীর সাততলা বস্তিতে ফের আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের (উন্নয়ন) ডেপুটি ডিরেক্টর (ডিডি) নূর হাসান আহমেদকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেছেন, অবৈধ গ্যাসের লাইন বা বিদ্যুতের লাইনের ত্রুটি থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের শুকনো ও অন্যান্য খাবারের ৯শ প্যাকেট বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। সোমবার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. সেলিম হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, প্রতিটি প্যাকেটে চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি, চিড়া ও নুডলসÑ এ ৭টি পণ্য রয়েছে, যা ৪ সদস্যের একটি পরিবারের এক সপ্তাহ চলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By cinn24.com
themesbazar24752150