মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গজল সম্রাট পঙ্কজ উদাস আর নাই : গাইবান্ধায় জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির মিলনমেলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী গোবিন্দগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক এর জন্য মনোহরদী থানার ওসি গণসংগীত শিল্পী আব্দুল লতিফের প্রয়াণ দিবস আজ নবীগঞ্জে জেল ফেরত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের নওগাঁ রাণীনগর আগাছানাশক ওষুধ ছিটিয়ে দেড় বিঘা জমির ধান বিনষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা ভারতীয় চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীর জন্মদিন দেওয়ানগঞ্জে স্কুল শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করলো চেয়ারম্যান প্রার্থী গাইবান্ধায় দুদকের অভিযানে পাসপোর্ট অফিসের তিন দালাল গ্রেফতার ৭ দিনের জেল কালাইয়ে মিলনের ঐতিহাসিক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার তহবিল থেকে উপজেলার ৩৭ জন উপকার ভোগীদের মাঝে ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করেন খাদ্যমন্ত্রীঃ দুপচাঁচিয়ায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার সুন্দরগঞ্জে বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান কল্যাণ সমিতির কমিটি গঠন লালমনিরহাটে তৃত্বীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর পাশে উপজেলা চেয়ারম্যান সুজন দেওয়ানগঞ্জে আতশবাজির শব্দে একজনের মৃত্যু নওগাঁর মহাদেবপুরে চকচকি হাফেজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয়তল ভবন ভিত্তিপ্রস্তর শুভ উদ্বোধন নবীগঞ্জ উপজেলা পানিউমদা ভুমি অফিসের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সিপিবির সম্মেলন অনুষ্ঠিত সভাপতি নান্নু, সম্পাদক সাজু গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাতীয় ফসল জিরা মসলা চাষের ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন

সিনহা হত্যার ১ বছর: ‘জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হলেই পাব স্বস্তি’

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১
  • ২৭৩ বার পঠিত

করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের কারণে থমকে আছে কক্সবাজারে চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম। তার মধ্যেই আজ পূর্ণ হচ্ছে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের এক বছর। এক বছরেও এখনও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণও শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফরিদুল আলম চৌধুরী বলেছেন, চলমান লকডাউনে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পূর্বনির্ধারিত সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিচারপ্রার্থী নিহতের বোন ও মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার শুক্রবার সময়ের আলোকে বলেছেন, ‘সিনহা হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হলে তবেই স্বস্তি পাব।’

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফরিদুল আলম চৌধুরী জানান, গেল ২৭ জুন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল সিনহা হত্যা মামলার চার্জ গঠন করেন। এ সময় বিজ্ঞ বিচারক ২৬-২৭ ও ২৮ জুলাই এ মামলায় বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। কিন্তু সোমবার (২৬ জুলাই) প্রথমদিনের মতো আদালত বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের নির্দেশনা দিলেও লকডাউনের কারণে তা হয়নি। তিনি জানান, ২৬ জুলাই ভাচুয়ালি যদি আদালত বসে তবে সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ সম্পর্কে জানা যাবে।

সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমাদের চাওয়াটা হলো দ্রুত বিচারটা হবে, সন্তোষজনক রায় এবং রায়টা কার্যকর হবে। এটাই এখন চাওয়া। এই চাওয়াটা আসলে পাওয়ার জন্য তো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। কক্সবাজারের নিম্ন আদালতে রায় হতে হবে। সেখান থেকে উচ্চ আদালতে আপিল হবে। পরে রায়টা চূড়ান্ত হবে। ক্যাপিটাল শাস্তি যেন হয়। এ ঘটনায় টপ আসামি সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ জড়িতদের ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ (সর্বোচ্চ শাস্তি) যেন নিশ্চিত হয়। বাকি আসামিরা যতটুকু অপরাধ করেছে সেই অনুযায়ী যেন বিজ্ঞ আদালত সাজাটা নির্ধারণ করেন। পরবর্তী সময়ে রায়টা যেন দ্রুত কার্যকর হয় সেটাই আমাদের বড় চাওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘র‌্যাবকে আমরা ধন্যবাদ জানাই তারা খুব অল্প সময়ে ভালো একটা চার্জশিট প্রদান করেছে বলে মনে হচ্ছে। এই বিচারের গত মাসে অভিযোগ গঠন হয়েছে। আনুষ্ঠানিক বিচারও শুরু হয়েছে। চলতি মাসের ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। পরপর দিন শুনানির দিন ধার্য করা হলেও হয়নি লকডাউনের কারণে। এটি তো আমাদের হাতে নেই, আমরা কিছুই করতে পারব না। এখন এই মুহূর্তে করোনাই হচ্ছে সবচেয়ে এই মামলার বড় চ্যালেঞ্জ।’

শারমিন বলেন, ‘দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে করোনার কারণে তো মামলাটি তো ডিলে হবে। এটা খুব স্বাভাবিক। কখন শুনানি শুরু হবে তা বলা কঠিন। এ মামলায় অনেক প্রত্যক্ষদর্শী আছে। মামলা যত দীর্ঘ হবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধরে রাখাটা কঠিন হবে। এই মামলায় ওই শ্যামলাপুর গ্রামের লোকজনই বেশি প্রত্যক্ষদর্শী। করোনার কারণে অনেকে বিভিন্ন জায়গায় চলে যেতে পারে। সে জন্য মামলাটি দীর্ঘ না করা। যাতে প্রত্যক্ষদর্শীরা হারিয়ে না যায়। এ ছাড়াও মামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে হুমকি আসে, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখা দেয়।

মামলার প্রধান সাক্ষী বাহারছড়ার আব্দুল হামিদ জানান, একজন মানুষকে প্রকাশ্যে বিনা দোষে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তাই তিনি বিবেকের তাড়নায় জীবনের ঝুঁকি জেনেও শারমিন ফেরদৌসের করা মামলায় সাক্ষী হয়েছেন। পুলিশের হয়রানি ও নানাভাবে চাপে থাকলেও খুনিদের ফাঁসি চান তিনি।

কী ঘটেছিল সে রাতে : সিনহার বোনের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, সিনহা ও তার সহযোগী সিফাত ৩১ জুলাই বিকালে ডকুমেন্টারির জন্য ভিডিও ধারণ করতে নীলিমা রিসোর্ট থেকে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তার পাশের পাহাড়ে যান। ‘ডকুমেন্টারির প্রয়োজনেই’ সিনহার পরনে তখন কমব্যাট গেঞ্জি, কমব্যাট ট্রাউজার ও ডেজার্ট বুট ছিল। রাত ৮টা পর্যন্ত পাহাড়ে ভিডিও ধারণ করে তারা ফিরতি পথে রওনা হন এবং রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে সিনহার প্রাইভেটকার শামলাপুর চেকপোস্টে পৌঁছায়।

পরিদর্শক লিয়াকতসহ পুলিশ সদস্যরা সেখানে গাড়ির ‘গতিরোধ’ করে। সিনহা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হিসেবে পরিচয় দিলে পুলিশ সদস্যরা গাড়ির সামনের বাঁ দিকের দরজা খুলে ‘টেনেহেঁচড়ে’ সিফাতকে বের করে নিয়ে যান। সিফাত তখন দুই হাত তুলে নিজের এবং গাড়িতে বসা সিনহার পরিচয় দেন। আসামিরা ওই সময় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা মেজর সিনহাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে।’ মামলায় আরও বলা হয়, এ সময় সিনহা গাড়ি থেকে নেমে দুই হাত উপরে তুলে বারবার নিজের পরিচয় দেন। কিন্তু পরিদর্শক লিয়াকত তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। ‘বলতে থাকেন, তোর মতো বহুত মেজরকে আমি দেখছি। এইবার খেলা দেখামু।’ এরপর লিয়াকত টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ফোন করে নিচুস্বরে সলাপরামর্শ করতে থাকেন। একপর্যায়ে লিয়াকত ফোনে প্রদীপকে বলতে থাকেন, ‘ঠিক আছে, শালারে শেষ কইরা দিতাছি।’ ওই সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরিদর্শক লিয়াকত মেজর সিনহার শরীরের ঊর্ধ্বাংশে কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। গুলির আঘাতে সিনহা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান এবং নিজের জীবন রক্ষার জন্য ঘটনাস্থল থেকে উঠে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন অন্য আসামিরা তাকে চেপে ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। লিয়াকত আলি তখন সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করতে আরও এক রাউন্ড গুলি করেন।’

এজাহারে বলা হয়, ‘এর পরপর ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে ওসি প্রদীপ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা সিনহার শরীর ও মুখে কয়েকবার লাথি মেরে তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং নিজের বুট জুতা দিয়ে ঘষা দিয়ে নিহতের মুখমণ্ডল বিকৃত করার চেষ্টা করতে থাকেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By cinn24.com
themesbazar24752150