শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁর মান্দায় বিষাক্ত চোয়ানী ও মদপানে ৩ যুবকের মৃত্যু মধুপুরের ইদিলপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও গ্র্যান্ড মিট- আপ-২০২৪ অনুষ্ঠিত নওগাঁ সহ বিভিন্ন উপজেলায় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা কালাইয়ের উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পবিত্র ঈদুল ফিতরের সালাত অনুষ্ঠিত নওগাঁর ধামুইরহাট থেকে ধর্ষক ইয়ানুর নামে এক জন কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৫ নওগাঁ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে গ্রাম পুলিশদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন পুলিশ সুপার মধুপুরে এক গৃহবধূর রহস্য জনক মৃত্যু গাইবান্দা পলাশ বাড়িতে সাব রেজিস্টার অফিসে গণমাধ্যম কর্মী শেখ আসাদুজ্জামান টিটুর উপর সন্ত্রাসী হামলা। বায়তুল মোকাররমে পালিত হয়ে গেলো সায়েম সোবহানের মাসব্যাপী ইফতার বিতরণ কচুয়া বালিয়াতলী ১৯লক্ষ টাকায় মসজিদের মিনার উদ্বোধন সম্পন্ন নওগাঁ জেলার পত্নীতলায় বাংলাদেশ স্কাউট দিবস পালিত মধুপুরে সিএনজি ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা নিহিত ছেলে আহত নওগার মান্দায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে ১ লক্ষ্য টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ নওগাঁয় ৮৬৭০ জন কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ শোক সংবাদ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নওগাঁ জেলার সভাপতি নির্মল কৃষ্ণ আর নেই নওগাঁয় সংবাদ সংগ্রহের সময় ফাঁড়ি ইনচার্জের হাতে সাংবাদিক লাঞ্চিতঃ নওগাঁর মান্দায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঈদসামগ্রী বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত মধুপুরে ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ৮জন গ্রামপুলিশকে পুরস্কৃত দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশের আয়োজনে গ্রাম পুলিশের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ গাইবান্দা পলাশ বাড়িতে সাব রেজিস্টার অফিসে গণমাধ্যম কর্মী শেখ আসাদুজ্জামান টিটুর উপর সন্ত্রাসী হামলা(বিস্তারিত নিউজে)

২০০ প্লট ‘যাচাই করে ব্যবস্থা’ নেবে সরকার ‘গোল্ডেন মনির’ তিন মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ডে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৭৪ বার পঠিত

Cinn:- রাজধানীর মেরুল বাড্ডা থেকে গ্রেপ্তার মনির হোসেন ওরফে ‘গোল্ডেন মনিরের’ বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিশেষ ক্ষমতা ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের তিন মামলায় ১৮ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক অস্ত্র, আইন বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমান রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে সকালে বাড্ডা থানায় মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।
আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মাজহারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি মনির হোসেন ওরফে ‘গোল্ডেন মনির’কে হাজির করে অস্ত্র আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের তিন মামলায় সাত দিন করে ২১ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিন এবং মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমান চার দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, আসামির বাসায় অবৈধ অস্ত্র ও টাকাপয়সা পাওয়া গেছে। এর উৎস জানার জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। অপর দিকে আসামিপক্ষে আদালতে বলা হয়, হয়রানি জন্য এই মামলা।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার একটি বাসায় গত শুক্রবার রাত ১০টা থেকে অভিযান চালিয়ে মনির হোসেন ওরফে ‘গোল্ডেন মনির’কে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। র‌্যাবের দাবি, নব্বইয়ের দশকে রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটে কাপড়ের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মনির। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে মালিক হয়েছেন এক হাজার ৫০ কোটি টাকার। অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া মনির নব্বইয়ের দশকে গাউছিয়া মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। এরপর রাজধানীর মৌচাকে ক্রোকারিজের একটি দোকানে কাজ শুরু করে পরবর্তী সময়ে তা নিজ ব্যবসায় রূপ দেন। ওই ব্যবসা করতে করতে লাগেজ ব্যবসা শুরু করেন। তিনি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে কাপড়, কসমেটিকস, ইলেকট্রনিকস পণ্য, কম্পিউটার সামগ্রী, মোবাইল, ঘড়িসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র বিদেশ থেকে দেশে আনতেন। এভাবে একপর্যায়ে তিনি স্বর্ণ চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বায়তুল মোকাররমে একটি জুয়েলারি দোকানও দেন। যে দোকানটি তাঁর চোরাকারবার করার কাজে লাগত। এভাবে মনির থেকে তিনি হয়ে ওঠেন গোল্ডেন মনির। এভাবে তিনি মোট এক হাজার ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।’
আশিক বিল্লাহ আরো বলেন, ‘স্বর্ণ চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পর তিনি বিপুল অবৈধ স্বর্ণ বিদেশ থেকে দেশে নিয়ে আসতে থাকেন। তার স্বর্ণ চোরাচালানের রুট ছিল ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ভারত। এসব দেশ থেকে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিপুল স্বর্ণ দেশে আমদানি করেন তিনি। যার ফলশ্রুতিতে তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির। স্বর্ণ চোরাকারবারের জন্য তার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়।’ আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘গোল্ডেন মনিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ৬০০ ভরি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। এই স্বর্ণের পরিমাণ প্রায় আট কেজির মতো। আমরা জানতে পেয়েছি গাউছিয়ার একটি স্বর্ণের দোকানের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।’ র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘মনির হোসেনের বাসা থেকে বিদেশি একটি পিস্তল, চারটি গুলি, চার লিটার বিদেশি মদ, ৩২টি নকল সিল, ২০ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল, ৫০১ ইউএস ডলার, ৫০০ চাইনিজ ইয়েন, ৫২০ ভারতীয় রুপি, এক হাজার সিঙ্গাপুরের ডলার, দুই লাখ ৮০ হাজার জাপানি ইয়েন, ৯২ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, হংকংয়ের ১০ ডলার, ১০ ইউএই দিরহাম, ৬৬০ থাই বাথ জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর মূল্যমান আট লাখ ২৭ হাজার ৭৬৬ টাকা।’ আশিক বিল্লাহ আরো বলেন, ‘আমরা তাকে মূলত ফৌজদারি অপরাধে তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছি। মনির মূলত একজন হুণ্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ চোরাকারবারি ও ভূমির দালাল। এ ছাড়া একটি গাড়ির শোরুমের স্বত্বাধিকারী তিনি। মনিরের বাসা থেকে দুটি বিলাসবহুল অনুমোদনহীন গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। যার একেকটির মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। এর পাশাপাশি গাড়ির শোরুম থেকে তিনটি বিদেশি বিলাসবহুল অনুমোদনহীন গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।’ র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, ‘ভূমিদস্যু মনির রাজউকের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঢাকা শহরের ডিআইটি প্রজেক্ট, বাড্ডা, উত্তরা, নিকুঞ্জ ও কেরানিগঞ্জে তাঁর দুইশরও বেশি প্লট আছে। এরই মধ্যে ৩০টি প্লটের কথা তিনি প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন। রাজউকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জালিয়াতি ও স্বর্ণের ব্যবসা করে তাঁর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে।’
ব্রিফিংয়ে আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘মনিরের বিরুদ্ধে আরো বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি আমরা। সেসব অভিযোগের তদন্ত করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন, বি আরটিএ, সিআইডি ও এনবি আরকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাবে র‌্যাব। র‌্যাব বাদী হয়ে মনিরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ তথা অনুমোদনহীনভাবে বিদেশি মুদ্রা রাখার দায়ে বাড্ডা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করবে। অনুমোদনহীন বিদেশি অস্ত্র ও গুলি রাখার কারণে অস্ত্র আইনে এবং মাদক রাখার জন্য মাদক আইনে মামলা করা হবে।’ আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘গোল্ডেন মনিরের নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে আরো কারা কারা জড়িত আছে, তা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে র‌্যাব অনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করার অনুরোধ করবে। র‌্যাবের এই অভিযানে একটি গোয়েন্দা সংস্থা খুবই ওতপ্রোতভাবে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছে। সুতরাং দীর্ঘমেয়াদি একটি অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ সাপেক্ষে আমরা এই অভিযানটি পরিচালনা করেছি। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছি, একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। এবং ওই রাজনৈতিক দলে অর্থ জোগানের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।’ র‌্যাবের এই পরিচালক বলেন, ‘আমরা এখন মনিরকে র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে নেব। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২০০ প্লট ‘যাচাই করে ব্যবস্থা’ নেবে সরকার: মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের নামে থাকা ২০০ প্লটের তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ব্যবস্থা নেবে সরকার। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. সাঈদ নূর আলম গতকাল রোববার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে নূর আলম বলেন, এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত হবে। রাজউক চেয়ারম্যান মনিরের অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির ব্যাপারে বলেন, ‘এগুলো আমরা তদন্ত করব। তদন্তে যারা যারা শনাক্ত হবে, তাদের সকলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আদালতে যে মামলা আছে তা চলবেই।’ মনিরের ২০০ প্লটের মালিক হওয়ার পেছনে রাজউকের কারো সহযোগিতা ছিল কি না- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে সাঈদ নূর আলম বলেন, ‘আমার ধারণা এটা এক দিনের প্রক্রিয়া নয়, এটা দীর্ঘ দিনের প্রক্রিয়া। আমরা এত দিনে উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।’ রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, মনিরের দুর্নীতির বিষয়টি প্রথম উদঘাটন হয় গতবছর, তখনই সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই ব্যবস্থা চলমান থাকবে যতক্ষণ না সর্বশেষ বিষয়টি উদঘাটিত হচ্ছে। মনিরের প্লটগুলো বাতিল করা হবে কি না- এই প্রশ্নে চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় যদি কোনো প্রকার ইয়ে (অনিয়ম-দুর্নীতি) থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই বাতিল করব।’ অনিয়ম রোধে রাউজকে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হবে জানিয়ে সাঈদ নূর আলম বলেন, নতুন করে আরও শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করব। সেই পরিকল্পনা আমাদের আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By cinn24.com
themesbazar24752150