শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দুপচাঁচিয়ায় প্রাণিসম্পদ সেবা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত মধুপুর সহকারী পুলিশ সুপারের আবারও বিশাল অর্জন সরিষাবাড়ীতে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে নওগাঁর সাপাহারে আদিবাসী মঙ্গল টুডু নামে এক কৃষকের আম বাগানের গাছ কর্তনের অভিযোগ দুপচাঁচিয়ায় থানা পুলিশের অভিযানে ১০ জন গ্রেপ্তার নওগাঁয় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়াই নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে তুলেনিয়ে ধর্ষণ বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় মুজিবনগর দিবস উদযাপিত নাট্যকার অমৃতলাল বসুর জন্মদিন আজ : নওগাঁ জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় মোহাধুমধামে চৈত্র মাসে শুক্লপক্ষে বাসন্তী পূজা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নওগাঁ ঐতিহ্যবাহী ৫ শ বছরের পুরনো রঘুনাথ মন্দিরে রামনবমী জন্ম উৎসব উপলক্ষে ভক্তদের ঢল নেমেছে কালাইয়ে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী-২০২৪ অনুষ্ঠিত বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন কালাইয়ে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী-২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নওগাঁর মহাদেবপুরে বিএনপি ও জামাতনেতা সহ ২১ জনের মনোনয় পত্র দাখিল বগুড়ায় ২২ কেজি গাঁজাসহ ২ জন গ্রেফতার তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ কালাইয়ের জনগণ দুপচাঁচিয়ায় মাদক সেবনের সময় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৫ শোক সংবাদ! শোক সংবাদ!! নওগাঁর আত্রাই উপজেলা বিএনপির নয় নেতাকর্মীকে কারাগারে প্রেরণ নওগাঁর ইয়াদ আলীর মোড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

২ মাস ধরে ঘরছাড়া ৫০টি পরিবার তাড়াশ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৩৭০ বার পঠিত

পাবনার চলনবিল অধ্যুষিত ভাঙ্গুড়া উপজেলার দাসবেলাই গ্রামে একটি খাস পুকুর দখলকে কেন্দ্র করে গত ১৪ অক্টোবর সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত আবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় তোরাব আলী (৬৫) ও তার ছেলে মো. ফজলু (৩৫) দু’ব্যক্তি মারা যায়।
মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌঁছা মাত্রই আসামিদের বাড়িতে বাদী পক্ষের লোকজন হামলা করে বাড়িঘর ভাঙচুরসহ প্রায় কোটি টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। জীবন বাঁচাতে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায় আসামি পক্ষের লোকজন। নিরাপত্তাহীনতায় একটি পক্ষের ৫০টি পরিবার প্রায় দু’মাস ধরে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তারা বাড়ি ফিরতে না পারায় চলতি বোরো মৌসুমে অনাদি থাকছে প্রায় তিনশ বিঘা কৃষি জমি। তাদের দাবি গ্রামে পুলিশি নিরাপত্তায় নিরাপরাধ লোকজনদের কে গ্রামে ফিরে আসার সুযোগ দেয়া হোক।
মামলা ও পুলিশ সূত্র জানায়, পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের দাস বেলাই গ্রামের একটি খাস পুকুর কে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী কয়েক বছর আগে থেকেই দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ অপর পক্ষকে মসজিদে নামাজ পড়তে বাঁধাও দেয়। এরই মাঝে ওই গ্রামের আব্দুল মুমিনের স্ত্রী রত্মা খাতুন (২২) কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ আনে অপর পক্ষের মৃত. আহসান আলীর ছেলে মো. মফিদুলের বিরুদ্ধে। এ পরিস্থিতিতে ঘটনার সত্য-মিথ্যা নিয়ে উভয়পক্ষ উত্তেজিত হয়ে পরে। এবং ১৪ অক্টোবর বিকেলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৩০ ব্যক্তি আহত হয়। ঘটনার রাতেই মোছা. রত্মা খাতুন ভাঙ্গুড়া থানায় বাদী হয়ে ১৮ জন কে আসামিকে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তরিত করে। এবং ভাঙ্গুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৭ আসামিকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে আসামিরা জেল হাজতে রয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে নিহত তোরাব আলীর গ্রুপের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের ৫০টি পরিবারে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। লুটে নেয় ধান, চাল, আসবাবপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, গরু ছাগল, হাঁস মুরগিসহ প্রায় কোটি টাকার সম্পদ। পুড়িয়ে দেয় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সনদও। প্রাণ বাঁচাতে নারী শিশু ও বৃদ্ধরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। লুটপাটের ঘটনায় ২৮ অক্টোবর গাজী আব্দুর রহমান বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে পাবনার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। উভয় মামলা রেকর্ডভূক্ত করে ভাঙ্গুড়া থানা।
এ প্রসঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রহমান বলেন, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ আমি একজন বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা হয়েও বাড়িতে ফিরতে পারছি না। আমার মতো ৫০টি পরিবারের নিরাপদ লোকজনও তাদের বাড়িতে ফিরতে পারছে না। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের বিচার হোক। কিন্তু নিরাপরাধ লোকজন কে বাড়ি ফিরতে না দেয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন। নিরাপরাধ লোকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না নিলে চলতি বোরো মৌসুমে আনাবাদি থাকবে তাদের প্রায় তিনশ বিঘা জমি। পাশ্ববর্তী তাড়াশ উপজেলায় আশ্রয় নেয়া সীমা খাতুন বলেন, তিন দিনের শিশু সন্তান কে নিয়ে পালিয়ে এসেছি। এই শীতের রাতে পরের বাড়িতে সীমাহীন কষ্ট করছি। একই কথা জানালেন, ইসমত আরা ও সোনেকা খাতুনও।
এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মো. নাজমুল হক বলেন, উভয় মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। ইতিমধ্যেই ৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে আসামি না হলে তাদের বাড়ি ফিরতে কোন বাঁধা নেই। এ প্রসঙ্গে চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সজিব সাহরিন বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By cinn24.com
themesbazar24752150